রোজা পালনের মাধ্যমে মোত্তাকী হওয়ার উপায়

  • Posted: 21/05/2018

লেখকঃ ডাঃ মোঃ আজিজুল হক (আব্দুল্লাহ)

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। ঈমান, নামায, জাকাত ও হজ্জ লোক দেখানো হতে পারে কিন্তু রোজা রিয়াকারীতামুক্ত। রিয়াকারীতা অর্থ লোকদেখানো কাজ করা। কোন ব্যক্তি রোজা আছে কিনা সে এবং আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারবে না।
এই জন্য আল্লাহ বলেন “রোজা একমাত্র আমারই জন্য এবং আমিই এটার প্রতিদান দিব”।
অন্যান্য মাসের থেকে রোজার মাসে আমাদের মুসলিম সমাজে কিছু ব্যতিক্রম চোখে পড়ে। যারা অন্য মাসে নামায পড়েনি কিংবা অন্যায় পাপাচার করে, এই মাসে তা পরিহার করে থাকে। মসজিদে মুসল্লিদের আগমন বেড়ে যায়। অনেকে দাড়ি রাখে, দান খয়রাত করে। সুতরাং রোজার প্রভাব যে সমাজ জীবন ও ব্যক্তিজীবনে পড়েনা তা নয়। তবে এটা ঠিক যে ব্যবহারিক ও অর্থনৈতিক জীবনে তেমন পরিবর্তন লক্ষ্যনীয় নয়। যেমন কোন ব্যবসায়ীকে এই মাসে অতিরিক্ত মুনাফা করতে নিষেধ করলে তা সে কখনো শুনবেনা।

রোজা কাদের জন্য ফরজ?

প্রত্যেক সবল সুস্থ্য মুসলিম নর নারীর ওপর রোজা ফরজ। এটা একমাসের একটা intensive training program. মুত্তাকী হবার জন্যই এই training। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে ISSB তে উত্তীর্ণের পর ০৩ বৎসর মেয়াদী training গ্রহণ করতে হয় এবং তা সফলভাবে শেষ করার পর প্রশিক্ষণরত ক্যাডেটগণ কমিশনপ্রাপ্ত হন। ঠিক সেইভাবে All young healthy Muslims are provisionally selected for this training যারা সফলতার সাথে তা সমাপ্ত করতে পারবে তারা ইহকালে আল্লাহর মুত্তাকী বান্দাহ বলে পরিগণিত হবে এবং পরকালে রাইয়ান নামক বিশেষ দরজা দিয়ে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে। সবাইতো ট্রেনিং সফলভাবে শেষ করতে পারেনা। Army training এর সময় অনেকের হাত পা ভেঙ্গে যায়, অসুস্থ্য হয়ে যায়। ট্রেনিংএ ঝুঁকি থাকবেই। এরুপভাবে রোজার ট্রেনিং ঝুঁকিমুক্ত নয়। শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হবার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রে থাকতে পারে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে বিশেষত যারা বৃদ্ধ এবং রোগগ্রস্ত। এজন্য আল্লাহতায়ালা তাদের জন্য এই ট্রেনিং মাফের ব্যবস্থা নিয়েছেন মিসকিনকে খাইয়ে কিংবা সম্ভব হলে অন্য সময় রোজা পালনের মাধ্যমে।
এর ফলে ফরজ পালন না করার জন্য যে গুনাহ হতো, সেটা হবেনা। কিন্তু রাইয়ান নামক বিশেষ দরজা সেই ব্যক্তি পাবেনা।

রোজা কিভাবে আত্মিক উন্নতি সাধন করে?

আত্মজিজ্ঞাসা ও আত্মোপলব্ধি সৃষ্টি করা রোজার মূল উদ্দেশ্য। সৃষ্টির শুরু থেকে যদি আমরা দেখি তবে আমরা কে? কোথায় থেকে এলাম? সৃষ্টির সেরা জীব হলাম কীভাবে? কেনইবা সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয় আমাদের? আমাদের জন্ম কি Theory of evolution এর Natural Selection এর মাধ্যমে। নাকি অন্য কিছু। Natural Selection এর মূলমন্ত্র হচ্ছে অজৈব পদার্থ থেকে জৈব পদার্থের সৃষ্টি এবং সেটাই কালক্রমে ক্ষুদ্র অনুজীব থেকে জটিল থেকে জটিলতর প্রাণীর ক্রমবিকাশের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে এবং সবশেষে সর্বোন্নত জীব মানুষের আবির্ভাব হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।
এর বিপরীতে আমরা বিশ্বাস করি Scientific Evolution Process থাকতে পারে কিন্তু মানুষ এভাবে পৃথিবীতে আসেনি। মানুষ আল্লাহর Special creation মানুষ ছাড়া বিবেকবুদ্ধি, চিন্তাচেতনা, স্মরণশক্তি ও তার যথাযথ প্রয়োগ মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীর নাই। মানুষের রয়েছে এমন একটা আত্মা বা রূহ যা তার দেহকে নিয়ন্ত্রণ করে। তার মধ্যে আছে ‘নফস’ বা যা তাকে খারাপ কাজে প্ররোচিত করে (এখানে প্রচলিত অর্থে ‘আত্মা’ বলতে মনের সুপ্রবৃত্তি এবং ‘নফস’ বলতে কুপ্রবৃত্তিকে বুঝানো হয়েছে)। শয়তান নফসের ওপর ভর করে মানুষের আত্মাকে বিভ্রান্ত ও কলুষিত করে এবং দেহের কর্মকা-ের সাহায্যে পাপ কাজে প্ররোচিত করে। দেহ শক্তিশালী হলে এবং আত্মিক বা আধ্যাত্মিক শক্তি দূর্বল হলে নফস সেই দেহের মাধ্যমে অসংখ্য কুকর্ম সমাধা করতে পারে। দেহ দূর্বল হলে ততোধিক পরিমান কুকর্ম করতে পারবেনা।
আত্মা ও নফসের মধ্যে Balance of power (Inverse relationship) বিদ্যমান ।
আত্মা > নফস (আত্মা শক্তিশালী হলে নফস দুর্বল হবে)
আত্মা = নফস
আত্মা < নফস (নফস শক্তিশালী হলে আত্মা দুর্বল হবে)
কাজেই আত্মাকে শক্তিশালী করতে হলে নফসকে দূর্বল করতে হবে। সেটা করা যায় কীভাবে? রোজা হচ্ছে সেরকমের একটা ট্রেনিং। শরীরকে পরিমিত আহারের মাধ্যমে দূর্বল করে ফেললে নফস অনেক কুকর্ম ঘটাতে পারবেনা। পাশাপাশি আত্মাকে উজ্জীবিত করার জন্য বেশি করে আত্মার খোরাক দিতে হবে।
আত্মার খোরাক কি? এক কথায় সৎকর্ম, নামায, রোজা, হজ্জ, জাকাত, দান খয়রাত, তসবী তাহলিল, কোরান তেলাওয়াত, জিকির আসগার, সৎব্যবসা, দুর্নীতিহীন চাকুরী, মানবসেবা ইত্যাদি।
নফসের খোরাক- কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, অহংকার, অশ্লীলতা ও যাবতীয় দূষ্কর্ম।
রোজার উদ্দেশ্য-আত্মার খোরাক বৃদ্ধি করে নফসের খোরাক কমিয়ে আনা। এর ফলে যে কমিশনপ্রাপ্ত মুসলমান আমরা পেতে পারি তাকে বলা হয় মুত্তাকী।
প্রিয় রোজাদারগণ,
নফসের দমনের প্রধান হাতিয়ার হলো তার বাহনকে দূর্বল করা সেজন্য রোজাদারদের পানাহারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সংযম প্রদর্শন জরুরী। কোন রোজাদার যদি রোজা থেকে কোন কষ্ট পেলনা তবে সন্দেহ জাগে যে তার রোজা হচ্ছে কি না? কারণ কোন সঠিক ট্রেনিং আরামদায়ক হতে পারেনা। কোন Trainee কে জিজ্ঞাসা করুন ট্রেনিংএ কষ্টের কথা সে বলবে। যেমন কোন পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিকেল ট্রেনিংয়ের ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করুন সে ট্রেনিং এর কষ্টের কথা বলবে ।
প্রিয় রোজাদারগণ,
আমরা কেন খাই? we eat to live নাকি we live to eat. প্রথমটি সত্যিকার অর্থে মানব দর্শন বা ইসলামী দর্শনের কথা। যে দর্শন মানুষকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত আহার করতে নিষেধ করে। সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার জন্য অতিরিক্ত fuel শরীরে দিলে তা বিভিন্নরকম শারীরিক ও তার পাশাপাশি পাশবিক রিপুগুলোকে প্ররোচিত করতে পারে। তাই একজন মুমিন মুসলমান আহারের ব্যাপারে সবসময় মিতাহারী হবেন। রাসুলুল্লাহ (সা) এক চতুর্থাংশ পেট সবসময় খালি রেখে আহার করতে বলেছেন। রোজা তার কোন ব্যতিক্রম নয়।
“রোজার সময় খাবারের কোন হিসাব নেই, যত বেশি খেতে পারো।”- এমন বানোয়াট কথা প্রচলিত আছে যা সস্পূর্ণ ইসলামী দর্শনের বিরোধী। এই কথার সাথে “we live to eat” পাশ্চাত্য ভোগবাদী দর্শনের কথার মিল রয়েছে। এর মর্মার্থ হচ্ছে জীবনকে যতসম্ভব ভোগ কর, জীবনকে enjoy করো, এসবে নীতি নৈতিকতার কোন ধার ধেরোনা। একজন রোজাদার যদি লোভের কারণে অতিরিক্ত ভোজন করে তবে রোজা শুদ্ধ হবেনা। প্রকৃত সংযম খানাপিনায় ও ব্যক্তিগত ভোগবিলাসের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শুরু হবে।
আসুন, একটিবারের জন্য আমরা শরীরকে খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একটু negative balance এর দিকে যেয়ে পরীক্ষামুলকভাবে দেখি না কেন অন্তত এই রোজার মাসটিতে ।
সারাবছর আমরা আহারের ক্ষেত্রে energy input > energy output অথবা energy input = energy output এই নিয়মে মনের চাহিদা অনুসারে চলে থাকি । আসুন রোজার ট্রেনিংএ কিছুটা negative balance এ অর্থ্যাৎ -
energy input < energy output করি এবং এর ফলাফল দেখি। এর ফলে দ্রুত শরীর দুর্বল হবে তবে অকেঁজো হবেনা। কয়েকদিনের মধ্যেই metabolic readjustment হবে। লাভ হবে এই যে দেহের শক্তি দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে নফসও দুর্বল হবে এবং রোজার মাসে পুরো সময়টা বিশেষত এতেকাফে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। এইরকম একটা শরীর ও মনে আমরা দেখতে পাবো নামায পড়তে কত ভালো লাগে। কুরআন তেলাওয়াত এবং কুরআনের বাণী যেন ঐশরিক উপায়ে মনের গভীরে প্রবেশ করছে। ইফতারের খেজুর, পানীয় অতি সুমধুর মনে হবে। যা অতীতে সে কখনো টেরই পায়নি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার মনোজাগতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। এরুপভাবে একটা মাস প্রশিক্ষণ শেষে কমিশনপ্রাপ্ত একজন মুত্তাকীর পরবর্তী ১১ মাসও আল্লাহর নির্দেশিত এবং রাসুলুল্লাহ প্রদর্শিত নিয়মে চলতে থাকবে।
উদরপুর্তি সেহেরী ও পানাহার এবং ক্ষুধাতৃষ্ণা উদ্রেক হবার পূর্বেই অজস্র high calorie সমৃদ্ধ লোভনীয় ইফতার ভোজন করলে আমরা কি একজন দীন দরিদ্র, ভুখা নাংগা মানুষের ক্ষুৎ পিপাসা ও কঠোর জ্বালা বুঝতে পারবো? এবং তাদের জন্য সমব্যথি হতে পারবো? প্রয়োজনে ইচ্ছা করে কম সেহেরী, ইফতার ও অন্যান্য পানাহার করে ক্ষুধা তৃষ্ণার উদ্রেক করে, নফসকে দুর্বল করে রোজা রাখলে সে রোজা যথার্থ হবে। নচেৎ রোজা থেকে যে ইপ্সিত সাফল্য লাভ যেটা আমরা আল্লাহর নির্দেশমত করতে চেয়েছিলাম তা সফল হবে না।

রোজা পালন সম্বন্ধে ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) মতামত

বিশিষ্ট ইসলামী দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) রমজানে আত্মসংযমের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
এই আত্মসংযমের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনকারীকে মুত্তাকী বলা হয়। দেহের সব ইন্দ্রিয়সমুহ যথাঃ চক্ষু, কর্ত, জিহ্বা, নাসিকা, ত্বককে সংযমের আওতায় আনতে হবে ।
১. চোখের সংযমঃ আল্লাহতায়ালার দিক থেকে মনকে বিরতকারী যাবতীয় পদার্থের দর্শন থেকে চক্ষুকে রক্ষা করা। বিশেষত অন্তরে কামভাব উদ্দীপক বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত করবেনা। নবী কারীম (সাঃ) বলেছেন, “শয়তানের তীরসমুহের মধ্যে চক্ষুর দৃষ্টি একটি অতি বিষাক্ত তীর। বান্দাকে আল্লাহর ভয়ে নিষিদ্ধ জিনিসের দর্শন থেকে চক্ষুকে সংযত রাখতে হবে”।
২. জিহ্বার সংযমঃ অযথা কথা বলা বা বকবক করা পরিহার করতে হবে এবং কুরআন শরীফ তেলাওয়াত ও আল্লাহর জিকির করতে হবে অন্যথায় চুপ থাকতে হবে। তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়া কলহ, অনর্থক বকবকের অন্তর্ভুক্ত। মিথ্যা কথা এবং পরনিন্দা ছাড়তে হবে।
৩. কর্ণের সংযমঃ আপন কর্তকে অশ্লীল বাক্য শ্রবণ থেকে বিরত রাখা। যেরূপ মন্দ কথা বলা উচিত নয় তেমনি তা শোনাও উচিত নয়। পরনিন্দা (গীবত) ও মিথ্যা কথা বললে যেমন পাপ হয় শুনলেও সেই পাপের অংশীদার হয়ে থাকে।
৪. হাত পা প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গুলোকে খারাপ কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখা।
এইরূপ নিয়মে না চললে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সেই হাদীসটি প্রযোজ্য হবে যে, “অনেক রোজাদার ব্যক্তি আছে ক্ষুধা তৃষ্ণা থেকে বিরত থাকা ছাড়া রোজা থেকে তার কোন ফল লাভ হয়না ” এছাড়া ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন ইফতারের সময় হারাম বা সন্দেহজনক দ্রব্য আহার করবেনা। আবার হালাল দ্রব্য অতিরিক্ত খাবেনা। দিবা রাত্রির জন্য নির্ধারিত দুবারের খাদ্য যদি এক রাত্রেই খেয়ে ফেলো তবে কী লাভ হবে? লোভকে দমন করাইতো রোজার উদ্দেশ্য। দুবেলার খাদ্য একবারে ভক্ষণ করলে লোভকে দমন না করে বরং অধিক বাড়ানো হয়। বিশেষত যখন নানা প্রকার সুস্বাদু এবং উপাদেয় খাবারের আয়োজন করা হয় তখন লোভ আরো বেড়ে যায়। পাকস্থলী শূন্য না হওয়া পর্যন্ত অন্তর পরিস্কার ও নির্মল হয়না। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আল্লাহতায়ালার দৃৃষ্টিতে পরিপূর্ণ উদর অপেক্ষা আর কিছুই অধিকতর ঘৃণিত নয়”।
ইফতার করে মনের মধ্যে এই ভয় প্রবণ রাখবে যে আমার রোজা কবুল হলো তো? এমনকি ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) আরো উল্লেখ করেন, ইফতার কি হবে দিবাভাগে অনেক পূর্ব থেকে এর আয়োজন করলেও রোজা দুর্বল হবে। এক্ষেত্রে মহাপ্রভু আল্লাহকে সকলের জীবিকা প্রদানকারী বলে দৃঢ় বিশ্বাসের মধ্যে দুর্বলতা প্রকাশ পায়।
আমরা সাধারণ মুসলমান হিসেবে তাকওয়ার ওই স্তরে পৌছতে না পারলেও নফসকে দমনের জন্য বর্ণিত কৌশলগুলো সহজে গ্রহণ করতে পারি। অতিভোজন পরিহার ও লোভের খাবার পরিহার করে, লোভ সংবরণ করে যেমন আমরা সংযম প্রদর্শন করতে পারি তদ্রুপ জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শন করলে সিয়াম সাধনা সফল হবে। এবং তখনি কেবল আমরা রোজাদারগণ মোত্তাকী হতে পারব।

এখানে আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপুর্ণ তা হচ্ছে “সময়”

রোজা ছাড়া অন্য সময় ২৪ ঘন্টায় একদিন হয়, রোজার সময়ও তদ্রুপই। তাহলে একজন মানুষ রোজার সময় বাড়তি ইবাদত বন্দেগী, জিকির আজগারের সময় পাবে কিভাবে? সেটা হচ্ছে অন্য কাজের সময় থেকে সময় কেটে নিয়ে বিশেষভাবে এই ট্রেনিংএর মাসে কাজে লাগাতে হবে। এটাই এই মাসের বিশেষত্ব। এজন্যেই এটাকে ট্রেনিংএর মাস বলা হয়। বাকী ১১ মাস এই বিশেষ ট্রেনিং থাকবেনা।
এই মাসে একজন ব্যবসায়ী ব্যবসায়ে কম সময় দিবে, যতটুকু না দিলে তার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হবে সেই পরিমাণ ব্যতিরেকে বাকী সময়টা এই ট্রেনিংএর জন্য ব্যয় করবে। একজন ছাত্র অন্যান্য পড়াশোনা কমিয়ে এই বিশেষ ট্রেনিংএ অংশ নিবে। সেইরূপ একজন শিক্ষককে বুঝতে হবে, একজন ডাক্তারকে বুঝতে হবে। রুগীকেও বুঝতে হবে যে এই মাসে পারতপক্ষে ডাক্তারের কাছে যাবোনা, তাতে আমারও সিয়াম সাধনা হবে ডাক্তারসাহেবও সিয়াম সাধনার সময় পাবে ।
এইভাবে যদি সমাজ সমন্বিতভাবে এই রমজানের শিক্ষা অর্থাৎ আত্মসংযমের শিক্ষা পালন করতে পারে তবে ওই সমাজ হবে তাকওয়াভিত্তিক বা খোদাভীতির সমাজ। এভাবে রোজার মাধ্যমে ব্যক্তিগত আত্মিক উন্নতির একটা সামাজিক রূপও পরিগ্রহ হতে পারে। ###

Share: