শিয়া ইমামগণের (আ.) নিষ্পাপ হওয়ার স্বপক্ষে বিভিন্ন দলীল প্রমাণ রয়েছে যাঁরা নবী করিম (সা.) এর আহলুল বাইত বলে গণ্য। এটা বলা যথেষ্ট হবে যে, শিয়া সুন্নি উভয় মাযহাবের পন্ডিত ব্যক্তিবর্গের ভাষ্য অনুযায়ী নবী করিম (সা.) তাঁর জীবনের শেষমুহূর্তের দিনগুলোতে এ হাদিস অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন-
“আমি তোমাদের মাঝে দু’টি মূল্যবান জিনিস রেখে যাচ্ছি, এক আল্লাহর কিতাব অপরটি আমার আহলুল বাইত এবং এ দু’টি জিনিস পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না তারা হাউজে কাউসারে আমার সাথে মিলিত হয়।” (সূত্র ঃ সুতাদরাক, হাকিম, খঃ ৩, পৃঃ ১৪৮, আল-সাওয়াকে মুহাররাকা, খঃ ১১, পৃঃ ১৪৯। এছাড়া কানজুল উম্মালের প্রথম খন্ডে, “ঐশী কিতাব ও হাদিসের প্রতি আনুগত্য” শীর্ষক অধ্যায়ে এবং মুসনাদে আহমাদ, খঃ ৫, পৃঃ ১৮২-৮৯ এ সম্পর্কিত বর্ণনা উল্লেখ আছে।)
অবধানযোগ্য যে, পবিত্র কুরআন সন্দেহাতীতভাবে সকল প্রকার ভূল ত্রুটির উর্দ্ধে, কেননা এর প্রেরণকারী মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, এ ঐশী বাণীসমূহের বাহক হলেন ফেরেশতা এবং এর গ্রহণকারী স্বয়ং নবী করিম (সা.)। তারা পরিপূর্ণরূপে নিষ্পাপ এবং সকল মুসলমানরা নবী (সা.) এর নিষ্পাপ হওয়া এবং ঐশী গ্রন্থের তাঁর উপর অবতীর্ণ হওয়া এবং এর রক্ষণ ও প্রচারের গুরুদায়িত্ব তাঁর উপর অর্পিত হওয়া সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করেন। এছাড়াও এটা সুস্পষ্ট যে, যখন পবিত্র কুরআন সকল প্রকার ভূল ও ত্রুটিমুক্ত, নবী পাক (সা.) এর আহলুল বাইতও সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত। কেননা, একটি পাখির দুটি ডানার ন্যায় নবী (সা.) এর আহলুল বাইত উক্ত হাদিস অনুযায়ী পবিত্র কুরআনের মত একইভাবে জাতির নেতৃত্ব ও নির্দেশনাদানের অধিকারী। অন্যভাবে বলা যায় যে, পবিত্র কুরআনে ভ্রান্ত ও অনিষ্পাপ ব্যক্তির এ ধরনের অন্তর্ভূক্তির কোন সুযোগ নেই। আহলুল বাইত (আ.) এর পবিত্রতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট দলিল হলো নবী করিম (সা.) এর হাদিসের সেই গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি যেখানে বলা হয়েছে “তারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা আমার সাথে হাউজে কাউসারে মিলিত হয়”।
তাঁরা যদি ভূল ত্রুটি মুক্ত না হতেন, তাঁরা পবিত্র কুরআন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতেন এবং মহানবী (সা.) আহলুল বাইত (আ.) এর নিষ্পাপ না হওয়ার বিষয়টি প্রচার করতেন না। তাছাড়া “আহলুল বাইত” শব্দটির অর্থ নবী করিম (সা.) এর বংশ বা পরিবারের সকল সদস্য নয় কেননা তারা সম্পূর্ণরূপে পাপমুক্ত ছিলেন না। সুতরাং পরিবারের মধ্যে একটি বিশেষ দল যাঁরা সকল পাপ ও ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার মর্যাদা অর্জন করেছিলেন তাঁদেরকেই আহলুল বাইত (আ.) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এঁরাই জনগণের হেদায়েতের আলোকবর্তিকা এবং মহানবী (সা.) এর হাদিস এবং ঐশী বিধানের সংরক্ষক।####
- হোম
-
পাক্ষিক ফজর
-
সংবাদ
-
জীবনী ও প্রতিষ্ঠান
-
মাসলা-মাসায়েল
-
প্রকাশনা ও প্রবন্ধ
-
আরও...