ঈদে মোবাহেলা ও কিছুকথা

  • Posted: 04/09/2018

লেখকঃ এস,এ,এম মঈনুল ইসলাম কাজেমী

মহান আল্লাহ পাক উম্মাতে মোহাম্মাদীর উদ্দেশ্যে কি ঘোষণা করেছেন “তোমরাই হচেছা শ্রেষ্ঠ উম্মত (জনগোষ্ঠী) যাকে মানব জাতির কল্যাণের জন্য বর্হিগত করা হয়েছে। সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করতে ও আল্লাহকে বিশ্বাস করতে (সূরা আলে ইমরানঃ ১১০)। এক্ষণে আমাদের স্মরণে আনতে হবে (সূরা আনআমঃ ৩২) পাথির্ব জীবন তো ক্রীড়া কৌতুক ব্যতীত কিছুই না এবং যাহারা তাকওয়া অবলম্ব করে তাদের জন্য আখেরাতের আরামই শ্রেয় । তৌরাতের পরে যবুরের মধ্যেও উল্লেখ করেছি যে মুমিন বান্দায়ই জমিনের মালিক (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৫)। এই সুরাতে একবিংশ শতাব্দীতে উম্মতের জন্য কুরআন মজিদের এই বাণীটা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে । “লা আল্লাহু ইয়া তাফাক্কারুন” তোমরা একটু চিন্তা কর ধ্যান কর এরই নাম মোহাসেবা অর্থাৎ হিসাব মিলানো, ধ্যানস্থ হয়ে নিজের বিচার নিজে করা। যে জাতি কেয়ামত পর্যন্ত বাদশাহী করবে, তাদের এই করুন অবস্থা কেন? তাই ঈদে মোবাহেলা মুসলিম উম্মাকে পুনঃস্মরণে এনে নতুন চেতনা ও উপলব্ধি অর্জনের উদার্থ আহ্বান জানাই। ঈদে মোবাহেলা কি? মহান আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন মজিদে একাধিক স্থানে ঘোষণা করেছেন যে, পৃথিবীর সকল অপশক্তির মোকাবেলায় তিনি তার সত্য দ্বীনকে বিজয়ী করবেন। একদা নাজরানের খৃষ্টান পাদ্রীদের নেতৃত্বে একটি দল মহানবী (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হন এবং হযরত ঈসা(আঃ) সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হন, নবীজির কোন যুক্তি তারা মানছিলেন না। এক পর্যায়ে তারা নিজেদের ধর্মের সত্যতা প্রমাণের জন্য মোবাহেলার (মিথ্যাবাদীদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষন হওয়া) প্রস্তাব করেন। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুলের প্রতি এরশাদ হয় “আপনার নিকট যথাযথ জ্ঞান আসার পরও যে কেউ এ বিষয়ে তর্ক করবে, সন্দেহ করবে তাদেরকে বলুন, আমরা আহ্বান করি আমাদের সন্তানদের, তোমরা তোমাদের সন্তানদের, আমরা আমাদের নারীদের, তোমরা তোমাদের নারীদের, আমরা আমাদের নাফসকে, তোমরা তোমাদের নাফসকে (আপন সত্বাকে), সুরা আলে ইমরানঃ ৬১। অতঃপর মহানবী (সাঃ) ইমাম হোসেনকে কোলে নিলেন, ইমাম হাসানের হাত ধরলেন বেহেশতের সম্রাজ্ঞী ‘মা ফাতেমাকে নিজের পিছনে এবং তাঁর পিছনে ইমাম আলী (আঃ)কে নিয়ে অগ্রসর হলেন । মহানবী (সাঃ) তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আমি যখন অভিসম্পাতের জন্য প্রার্থনা করব তখন বলবে আমীন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাকের নির্বাচিত ধর্ম যেমন পবিত্র, ঠিক তেমনি তার স্বাক্ষীগণকেও পবিত্র হতে হবে। তাই তিনি উল্লেখিত ৪ জন পবিত্র ব্যক্তিকে সঙ্গে নিলেন (কোন সাহাবীকে নেননি) কারণ তাঁর সার্বিক পবিত্রতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ নন। আমার সারা জীবনের অভিজ্ঞতা এতবড় যুগান্তকারী ঘটনা কেন মুসলিম সমাজের আলোচনায় অনুপস্থিত। তাই আসুন, নুতন করে চেতনা উপলব্ধি অর্জন করি। মোবাহেলার মাঠে নাজরানের পাদ্রীরা আহলে বাইত (আঃ)কে দেখে ভীত হয়ে সঙ্গী সাথীদের বললেন” আমরা এদের চেহারাতে এমন জ্যোতি দেখতে পাচ্ছি যদি তাঁরা পাহাড়কে সরে যেতে বলে তবে তাই হবে । সুতরাং, এদের সাথে মোবাহেলার (অভিসম্পাতের) প্রার্থনায় যাওয়া যাবে না। বরং তারা যদি জিজিয়া কর (খাজনা) ধার্য করেন তা আমাদের মেনে নিতে হবে। আজ একবিংশ শতাব্দীতে দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে ১৪০০শত বছর আগে খৃষ্টানরা আহলে বাইত (আঃ)কে চিনল অথচ আমরা চিনিনা জানিনা। অনেকে আহলেবাইতের নামও শুনেনি, অনুসরন করার তো প্রশ্নই আসেনা। তাই আসুন, নুতন উপলব্ধির জোয়ারে সুরা শুরার ২৩ নং আয়াতে বর্ণিত চাহিদামত সর্বজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মহামানব বিশ্বনেতা মহানবী (সাঃ)এর রিসালাতের পারিশ্রমিকের মর্যাদা দান করি। ইনশাল্লাহ হারানো গৌরব ফিরে পাব। তাই কবির ভাষায় বলতে হয় “ও গো মেঘ দেখে তুই করিসনে ভয়, আড়ালেই তার সূর্য হাসে।” সত্যের পতাকা তলে আমাদের সে নবদিনের অপেক্ষায় এগিয়ে যেতে হবে।

Share: