ইয়াজিদ কর্তৃক ইমাম হুসাইনকে (আ.) হত্যার প্রমাণ

  • Posted: 30/10/2018

কুখ্যাত ইয়াজিদ ক্ষমতায় বসেই মদিনার গভর্নর ওলিদকে চিঠি লেখে তাতেই ইমাম হুসাইন(আ:)-কে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ইয়াজিদের চিঠির অংশ তুলে ধরা হলঃ “... হুসাইন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ও আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে বাইয়াত নিতে বাধ্য করো এবং বাইয়াত ছাড়া তাদের অন্য কোন পথ নেই।”
তারিখ তাবারি, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, আল কামিল ফি তারিখ, আনসাব আল আশরাফ, মকাতিল এ হুসাইন, আল খরাযমি।
উপরের চিঠিতেই ইমাম হুসাইন আঃ সহ অন্যদের হত্যার নির্দেশ আছে যা সব রাজনীতিবিদ ও অফিসিয়াল চিঠি লেখকগণ পড়লেই বুঝতে পারবেন। যেমন ওলিদ এই চিঠি পেয়ে মারোয়ান ইবনে হাকামকে ডেকে পাঠায় এই বিষয় আলোচনা করার জন্য। মারোয়ান চিঠির ভাব সম্প্রসারণ করে।
আল বেদায়া ওয়া আন নেহায়া খন্ড ৮, পাতা ২৭৮: “আমার মত হল তারা মুয়াবিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগেই তুমি তাদের বায়াতের জন্য ডেকে পাঠাও, যদি অস্বীকার করে তাদের গর্দান উড়িয়ে দাও”।
সুতারং এই চিঠিতে যে কথা বলা ছিল তা মারোয়ান বলে দিয়েছে। আর যদি ইমাম হুসাইন আঃ কে হত্যার নির্দেশ না থাকত তবে ইমাম হুসাইন আঃ-কে রাতের অন্ধকারে মক্কা ত্যাগ করতে হত না।
#আহমাদ বিন দাউদ আবু হানিফা দিনওয়ারি তার কিতাব, “আখবার আত তাউল”-এর পৃষ্ঠা নং ২৭৯ (মিশর প্রিন্ট) উবায়দুল্লা ইবনে যিয়াদের স্বীকারোক্তি উল্লেখ করেছেনঃ “আমি হুসাইনকে হত্যা করেছি এই কারনে যে, সে আমাদের ইমামের (ইয়াজিদ) বিরুদ্ধে ক্বিয়াম করেছে আর ঐ ইমাম (ইয়াজিদ) আমাকে লিখেছে, হুসাইনকে হত্যা করতে। এখন এটা যদি গোনাহ হয় তবে ইয়াজিদ এই জন্য দায়ি।”
#ইবনে জিয়াদের স্বীকারোক্তি ও রাজ সাক্ষীঃ ইবনে আসির তার “আল কামিল ফিত তারিখ” কিতাব-এর তৃতীয় খন্ডে ১৯০ নম্বর পৃষ্ঠায় (দারুল কিতাব, বৈরুত) লিখেছেনঃ “আমি হুসাইনকে হত্যা করেছি ইয়াজিদের কথায় অন্যথায় সে আমাকে হত্যা করে ফেলবে। সুতরাং আমি হুসাইকে হত্যা করার বিষয়টিকে বেছে নিয়েছি।”
#আল্লামা জালালুদ্দিন সুউতি তার “তারিখে খুলাফা” কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ “ইয়াজিদ ইরাকের গভর্নর উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের কাছে তার (হুসাইনের) সাথে যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়ে লেখে। সেই জন্য সে (ইবনে যিয়াদ) চার হাজার লোকের একটা সেনাবাহিনী পাঠায় উমার বিন সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে।”
#আল্লামা যাহাবি তার “সিয়ারু আ’লামিন নুবালা” কিতাবের খন্ড ৩ পাতা ৩০৫-এ উল্লেখ করেছেনঃ [মুহাম্মাদ বিন যাহাক বর্ননা করেছে তার পিতা থেকে যে, যখন হুসাইন ক্বিয়াম করে, ইয়াজিদ তার গভর্নর ইবনে যিয়াদকে লেখে, “হুসাইন কুফার দিকে যাচ্ছে আর সে তোমার সময়ের সমস্যা অন্য সময়ের নয়, তোমার এলাকার সমস্যা অন্য এলাকার নয় এবং তোমার জন্য সমস্যা অন্য কোন গভর্নরের জন্য নয়। আর এখন তুমি মুক্ত হতে পার অথবা দাস (বন্দি) হতে পারো।”
তাই ইবনে যিয়াদ তাকে হত্যা করে ও তার মাথা ইয়াজিদের কাছে পাঠিয়ে দেয়।”]
#ইবনে যিয়াদের আবারো স্বীকারোক্তি যে, সে ইয়াজিদের নির্দেশে হুসাইন আঃ কে হত্যা করেছে।
“(এর আগে) ইয়াযিদ উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদকে চিঠি লেখে যে, সে যেন মক্কায় গিয়ে (আব্দুল্লাহ) ইবনে যুবাইরকে অবরোধ করে অথবা তার সাথে যুদ্ধ করে। ইবনে যিয়াদ আদেশ অমান্য করে এবং বলে, ‘আল্লাহর কসম এই (ইয়াযিদ এর মত) ফাসিকের জন্য আমি দুটি বাজে কাজ একত্রে করতে পারবো না। তার একটা রাসুল আল্লাহর নবীর মেয়ের পুত্রকে হত্যা আরেকটা বাইতুল্লাহিল হারাম (মক্কা) এ যুদ্ধ করা”।
ইবনে কাসির তার ‘আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (বাংলা) খন্ড ৮, পাতা ৪০৪,
ইবনে আসির তার বিখ্যাত কেতাব ‘আল কামিল ফিত তারিখ’ খন্ড ৪, পাতা ২১২ (দারুল কেতাব আরাবি, বৈরুত)
##ইবনে আব্বাস এর সাক্ষী যে, ইয়াজিদের হুকুমে হুসাইন আঃ-কে হত্যা করা হয়েছে। “আল কামিল ফিত তারিখ” খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২৪:
“ইবনে আব্বাস লিখল (ইয়াজিদের উত্তরে) ......তুমি হুসাইনকে হত্যা করেছো আর সাথে বনি আব্দুল মোত্তালিবের যুবকদের হত্যা করেছো যারা হেদায়াতের রশ্মি ও পরিচিত তারকার মত ছিল, তোমার হুকুমে তোমার সেনারা তাঁদের উপরে আক্রমন করেছে।”
#দ্বিতীয় মুয়াবিয়া, ইয়াজিদের নিজের ছেলের বক্তব্য তার বাবা ইয়াজিদ, হুসাইন আঃ কে কতল করেছেন।
হায়াত আল হাইয়ান, খন্ড ১, পৃঃ নং ৮৮।
“যখন ইয়াজিদের উত্তরসূরী হয়ে তার পুত্র মুয়াবিয়া সিংহাসনে বসল, তার প্রথম খুৎবায় বলল ‘আমরা ইয়াজিদের খারাপ কাজের ব্যাপারে সম্যক জানি, সে রাসুলের (সাঃ) পরিবারকে হত্যা করেছে, মদকে হালাল মনে করত এবং কাবাকে ব্যাথিত করেছিল।”
ইয়াজিদের ছেলে নিজেই তার বাবার কৃতকর্মকে তুলে ধরেছে।
#সালাফিদের ওস্তাদের ওস্তাদ ইবনে হজমের সাক্ষী ইয়াজিদ ইমাম হুসাইন আঃ-কে কতল করেছেঃ
“ইয়াজিদ ও উমাইয়্যাদের ভক্ত এবং সালাফিদের প্রিয়পাত্র ইবনে হজম যে ইয়াজিদেকে আমিরুল মোমিনিন বলে ডাকে তার কিতাব “জামহারাত আন্সাব আল আরব’ এর ১১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেঃ
“ইয়াজিদ আমিরুল মোমিনিন, ইসলামে অনেক খারাপ কাজ করেছে। তার শাসনকালের শেষ দিকে হাররা এর ঘটনায় সে আহলে মদিনাকে হত্যা করেছে, সে সর্বোত্তম লোকেদের ও অবশিষ্ট সাহাবীদের হত্যা করেছে। তার শাসনের প্রথম দিকে হুসাইনকে ও তার আহলে বাইতেদেরকে হত্যা করে। সে মসজিদে হারামে ইবনে যুবাইরকে ঘেরাও করে। সে কাবা ও ইসলামের পবিত্রতা নষ্ট করে আর এই সময় আল্লাহ তাকে মউত দেয়।”
#যাহবী, সালাফিদের আর এক প্রিয় মুহাদ্দেস এর সাক্ষী যে, ইয়াজিদ ইয়াম হুসাইন আঃ কে হত্যা করেছেঃ
তার তারিখে খুলাফার কিতাব খন্ড ৫, পাতা ৩০- এ উল্লেখ করেছেনঃ
“আমি বলিঃ ‘যখন ইয়াজিদ আহলে মদিনার সাথে যা করেছিল তা করেছিল, আর সে হুসাইনকে হত্যা করেছিল আরো তার ভাই ও বংশধরদের হত্যা করেছিল। ইয়াজিদ মদ্য পান করত এবং ঘৃণিত কাজ করত, তার পরে লোকজন তাকে ঘৃণা করত ও তার বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল একের অধিক বার। আল্লাহ তার জীবনকে বরকতময় করেনি।”
#যাহাবি ইয়াজিদকে নাসেবী বলে উল্লেখ করেছেনঃ "সে (ইয়াযীদ) ছিল অন্যতম নাসিবি (যারা নবীজীর আহলে বাইত আঃ কে ঘৃণা করে), সে মদ্যপায়ী ছিল আর অন্যায় কাজ করেছিল। সে তার রাজত্ব শুরু করেছিল শহীদ হুসাইনকে হত্যার মাধ্যমে আর শেষ হয়েছিল হাররা এর ঘটনার মাধ্যমে (মদিনা শরীফ-এর আক্রমণ আর ধংসলিলাকে হাররা বলা হয়)। জনগণ সেই জন্য তাকে ঘৃণা করত, তার জীবনে বরকত ছিল না, আর অনেকেই হুসাইনের পর তার বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল- তারা আল্লাহর জন্য জেগে উঠেছিল"। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খন্ড ৪, পৃঃ নং ৩৭-৩৮)
#প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নাম করা ঐতিহাসিক ইবনে খলদুন এর স্বীকারোক্তিঃ ইবনে খলদুন ও তার কিতাব ‘আল মুকাদ্দামা’-কে জানে না এমন কোন মুসলমান এবং অমুসলিম ওরিয়েন্টাল ঐতিহাসিক নেই। ইবনে খালদুন নিজে একজন নাসেবী ছিল তা সত্বেও তার স্বীকারোক্তিঃ
“হুসাইনের হত্যার ব্যাপারে ইয়াজিদেকে সমর্থন করা অসম্ভব। বরং হুসাইনের হত্যা ইয়াজিদের কাজ এবং এটা তাকে ফাসেক প্রমাণিত করে এবং হুসাইনকে শাহিদ।” (মুকাদ্দামাহ, পৃঃ নং ২৫৪)
#ইবনে কাসীরের স্বীকারোক্তি, ইয়াজিদ হত্যা করেছে ইমাম হুসাইনকেঃ ইবনে কাসীর বরাবরই ইয়াজিদকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে কিন্তু আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া কিতাবে ৬৩ হিজরির ঘটনায় তিনি লিখেছেনঃ “এটা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সে (ইয়াজিদ) হুসাইন ও তার সাথীদের কতল করেছিল ইবনে যিয়াদের দ্বারা।”
#দেওবন্দিদের হুজুরদের হুজুর কাজী সানাউল্লাহ পানিপথীঃ কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী তার তাফসীর মাজহারীতে সুরা মুহাম্মাদের ৫৫ নং আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন।
“এই আয়াত ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। ইয়াজিদ, রাসুল সাঃ- এর নাতীকে ও তার সাথীদের হত্যা করেছে, ঐ সাথীরা আসলে রাসুল সাঃ-এর পরিবার ছিল।”
আহলে সুন্নার মুহাদ্দেস ও রিজাল শাস্ত্রের আলেম, বুখারির বিখ্যাত শারাহ লেখক ইবনে হাজর আস্কালানীর লেখা আল ইমতা বিল আরবাইনের পৃষ্ঠা নং ৯৬ থেকে তুলে ধরা হলঃ
#ইয়াজিদের প্রতি লানতঃ “.........তাকে (ইয়াজিদকে) ভালবাসা ও তার বড়ত্ব একজন অধার্মিক ও ঈমানশূন্য ব্যক্তি ছাড়া কেউ প্রকাশ করে না, কারণ ইয়াজিদ এমন চরিত্রের লোক যে, তার প্রেমীকরা ঈমানশুন্য হতে বাধ্য, কারণ আল্লাহর জন্য ভালবাসা ও ঘৃণা ঈমানের লক্ষণ।”
আহলে সুন্নার প্রপাগন্ডা লাইব্রেরির অনলাইন লিঙ্ক এই বইয়ের

http://islamport.com/d/1/ajz/1/58/123.html

সুতরাং এই ফতোয়া অনুযায়ী যে কেউ ইয়াজিদকে ভালোবাসে সে ঈমানহীন।

লেখক: মো: নুরে আলম ######

Share: