মারজায়ে আলী-কদর, হযরত আয়াতুল্লাহ সিস্তানী (দা: যি:)
আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বরাকাতুহ।
পবিত্র মুহাররম মাসটি নিকটে আসার সাথে সাথে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা বার্ষিকী এগিয়ে আসছে, এদিকে কোরোনা মহামারি এখনও অব্যাহত থাকার কারণে, প্রাসঙ্গিক আধিকারিরা (কর্মকর্তারা) বৃহত্তর জনসভা এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে থাকেন, বিশেষত অভ্যন্তরীণ বা বন্ধ স্থানে। অনেক মোমিনগন তারা জিজ্ঞাসা করেন যে, সাইয়্যিদ আশ-শুহদা (আ.) এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবাগণের (আ.) জন্য উপযুক্ত শোক অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে তাদের কি করা উচিত? অথচ তারা (আগের মত) স্বাভাবিক শোক অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করছেন?
দয়া করে এ বিশয়ে ব্যাখ্যা দেবেন, আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।
বিসমিল্লাহীর রহমানীর রহীম।
কিছু মোমিনগন, নাজাফ আল-আশরাফ।
আস্ সালামু আলাল হুসায়েন ওয়া আলা আওলাদিল হুসায়েন ওয়া আলা আসহাবিল হুসায়েন ও রহমাতুল্লাহি ওয়া বরাকাতুহ্।
এই বেদনাদায়ক অনুষ্ঠানে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের মধ্যে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল সেই উপলক্ষে, দুঃখ ও শোক প্রকাশ করার ক্ষেত্রে এবং সেই মহান বিপর্যয়ে নবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পবিত্র পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করার জন্য অনেকগুলি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। যথা:
১) ইমাম হুসায়েন (আ.) এর এই শোক অনুষ্ঠানগুলি টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করুন, এবং এ লক্ষ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সেবা সংস্থাগুলি, বিশিষ্ট বক্তা এবং সক্ষম প্রশংসকদের (নওয়াখানদের) সাথে সমন্বয় ও যোগাযোগ করুন। এবং মুমিনদের তাদের বাড়িতে বা অনুরূপ জায়গায় বক্তৃতা শোনার জন্য উৎসাহিত করুন। (এবং এতেই সন্তুষ্ট থাকতে বলুন)
২) রাতে বা দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বাড়িতে শোক-সভা ও মজলিস অনুষ্ঠিত করুন। যেখানে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাথে তাদের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেই উপস্থিতি সীমাবদ্ধ রাখুন। এবং কিছু শোক অনুষ্ঠান শোনেন, এমনকি যদিও তা স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলিতে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। তবে সর্বজনীন শোক অনুষ্ঠানে, অবশ্যই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধিবিধানগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর অর্থ হল উপস্থিতিদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে মেডিকেল মাস্ক এবং অন্যান্য উপায় ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত মানদন্ডের সমান উপস্থিতি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। তবে অবশ্যই শোক অনুষ্ঠানগুলি (অন্দর বা বহিরঙ্গ) খোলা বা বন্ধ জায়গায় হচ্ছে কিনা এবং বিভিন্ন শহরে ভাইরাস কতটা বিস্তৃত তার উপর নির্ভর করে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।
৩) আশুরার প্রতীকগুলির বিস্তৃত বিতরণ করা এবং যত সম্ভব মোড়, রাস্তা, গলি এবং অন্যান্য জনসাধারণ জায়গায় কালো পতাকা (আলম মোবারক), ও ব্যানার উত্থাপন করা। তবে এটা খেয়াল রাখবেন এর জন্য অন্যের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা অনুরূপ স্থানগুলো জোরপূর্বক ব্যবহার করবেন না। এবং নিজের দেশের আইনগুলি ভঙ্গ করবেন না। আর অবশ্যই এটি উপযুক্ত যে, এই প্রতীকগুলিতে ইমাম হুসায়েন (আ.) এর মহান সংস্কারবাদী আন্দোলনের বাণীর কিছু কবিতা বা গদ্যের বিশেষ অংশ অন্তর্ভুক্ত করা।
এই উপলক্ষে প্রচলিত খাবারের ক্ষেত্রে, তাদের উৎপাদন এবং বিতরণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে এই বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করার অর্থ হল বিতরণকালে ভিড় এড়াতে কেবল শুকনো খাবার প্রস্তুত করা এবং মোমীনদের ঘরে ঘরে এটি সরবরাহ করলেও যথেষ্ট হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা সকলকে এই গুরুত্বপূর্ণ শোক অনুষ্ঠানটি পুনর্জীবিত রাখতে ও বর্তমান পরিস্থিতি যেমন স্বীকৃতি অনুযায়ী বেহেশতের যুবক (ইমাম হুসায়েন) আ. এর শোক পালনের ক্ষমতা দান করুন। তিনিই (আল্লাহ্ই) সাফল্যের অভিভাবক।
৯ ই যিলহিজ্জাহ ১৪৪১ হিজরি
আয়াতুল্লাহ আল্ উযমা সাইয়েদ সিস্তানীর অফিস, নাজাফে আশরাফ।
সূত্র :www.sistani.org