হযরত ফিজ্জা’র কোরআনের আয়াত চর্চা

  • Posted: 09/12/2020

হযরত ফিজ্জা ছিলেন হযরত ফাতেমা (সা.আ.)’র দাসী। তিনি হযরত ফাতেমা (সা.আ.)’র কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছুই শিখেন এবং তার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই তার জীবন চরিতে।

হযরত ফিজ্জা ছিলেন একজন বুদ্ধিমান নারী। হযরত ওমর তাঁর সম্পর্কে বলেন, যে ব্যাক্তিরা আবু তালিবের বংশে লালিত পালিত হয়েছে তারা আদি গোত্রের সকল ব্যাক্তিদের চেয়েও বেশী জ্ঞানী। (রিয়াহিনুশ শারিয়াহ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩১৭)

আল্লামা মাজলিসি (রহ.) হযরত ফিজ্জা সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। উক্ত ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর জ্ঞানে লালিত পালিত ফিজ্জা অধ্যাত্মিকতা এবং ইসলামীক জ্ঞানের এক উচ্চ পর্যায়ে পৌছান। বর্ণিত হয়েছে যে, কাবা শরীফের একজন জিয়ারতকারী তার কাফেলা থেকে দূরে পড়ে যায়। উক্ত ব্যাক্তিটি হঠাৎ একটি নারীকে দেখতে পাই এবং বুঝতে পারে যে, সেও পথ হারিয়ে ফেলেছে এবং বুঝতে পারছে না যে কোথায় যাবে। লোকটি তাঁকে জিজ্ঞাসা করে তুমি কে?

ফিজ্জা তার উত্তরে কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে বুঝাতে চান যে, কেন সে সালাম ব্যাতিত কথাবার্তা শুরু করে।
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ এবং বলুন, ‘সালাম। তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।(সূরা যুখরুফ, আয়াত নং ৮৯)
লোকটি বলে: সালামুন আলাইকে
লোকটি বলে: তুমি এ মরুভুমিতে কি করছ?
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ আর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। (সূরা যুমার, আয়াত নং ৩৭)
লোকটি বলে: তুমি কি জ্বিন নাকি মানুষ?
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও। (সূরা আরাফ, আয়াত নং ৩১)
লোকটি বলে: তুমি কোথায় থেকে আসছো?
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ তাদেরকে যেন দূরবর্তী স্থান থেকে আহবান করা হয়। সূরা ফুসসিলাত, আয়াত নং ৪৪।
লোকটি বলে: তুমি কোথায় যাবে?
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ আর এ ঘরের হজ্ব করা হলো মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৯৭)
লোকটি বলে: তুমি কখন তোমার কাফেলা হারিয়ে ফেলেছ?
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি। (সূরা ক্বাফ, আয়াত নং ৩৮)
লোকটি বলে: তুমি কি খাবার খাবে?
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ আমি তাদেরকে এমন দেহ বিশিষ্ট করিনি যে, তারা খাদ্য ভক্ষণ করত না। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং ৮)
খাবার খাওয়ার পরে লোকটি ফিজ্জাকে বলে: একটু তাড়াতাড়ি পথ চলতে হবে।
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না। (সূরা বাকারা, আয়াত নং ২৮৬)
লোকটি বলে: তাহলে তুমি আমার বাহনে আরোহণ কর।
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং ২২)
লোকটি তার বাহন থেকে নিচে নেমে আসে এবং ফিজ্জাকে আরোহণ করায়।
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। (সূরা যুখরুফ, আয়াত নং ১৩)
লোকটি বলে: আমি তাঁকে এভাবে তার কাফেলাতে পৌছে দেই। তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করে তুমি কাফেলার কাউকে কি চিন?
ফিজ্জা বলেন: অর্থঃ হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি।(সূরা সোয়াদ, আয়াত নং ২৬)
আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয়! (আলে ইমরান, আয়াত নং ১৪৪)
অর্থঃ হে ইয়াহইয়া দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ কর। (সূরা মরিয়ম, আয়াত নং ১২)
অর্থঃ অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে পৌঁছলেন, তখন আওয়াজ আসল হে মূসা। (সূরা তাহা, আয়াত নং ১১)
এ আয়াত সমূহের তেলাওয়াত করে তার চার সন্তানদের নামকে বুঝিয়ে দেয়।

আমি উক্ত কাফেলাকে থামতে বললাম এবং উক্ত নামগুলিকে উদ্দেশ্য করে ডাক দিলাম। তখন চারজন যুবক আমার কাছে আসে। আমি ফিজ্জাকে জিজ্ঞাসা করি এরা কারা?
ফিজ্জা বলে: অর্থঃ ধনঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য। (সূরা কাহাফ, আয়াত নং ৪৬)
এরা হচ্ছে আমার সন্তান।তার সন্তানরা তাদের মাকে পেয়ে অনেক খুশি হয়। তখন ফিজ্জা আবার কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে তাদেরকে আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের আদেশ দেয়।

ফিজ্জা বলে: অর্থঃ আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, যাতে আপনি যে আমাদেরকে পানি পান করিয়েছেন, তার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করেন। (কেসাস, আয়াত নং ২৫)
আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি যে এ নারীর পরিচয় কি?

তার সন্তানরা জবাব দেয় তিনি হচ্ছে আমাদের মা ফিজ্জা এবং তিনি ছিলেন হযরত ফাতেমা (সা.আ.) এর দাসী। আর তিনি এভাবে প্রায় ২০ বছর ধরে তার মনের ভাবকে কোরআনের আয়াত দ্বারা প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দেন।##

সুত্রঃ tvshia

Share: