অনুবাদ: মোঃ হোসাইন কাদীর গাজী
ছাত্র, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, খুলনা
মরহুম শেইখ মোর্তজা আনসারীর এক সন্তান বর্ণনা করেন যে, একজন ব্যক্তি শেইখের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে জোরে আওয়াজ করে ক্রন্দন করছিলো। তার ক্রন্দনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন: শেইখকে হত্যা করার জন্য একদল লোক আমার উপর চাপ সৃষ্টি করছিলো। তাই আমি বাধ্য হয়ে কোনো এক মধ্যরাতে তলোয়ার নিয়ে শেইখের বাড়িতে গেলাম। বাড়িতে প্রবেশ করে দেখলাম তিনি নামাজে সেজদারত অবস্থায় আছেন। আমি তাকে আঘাত করার জন্য তরবারি উঁচু করলাম। এমতাবস্থায় আমার হাত অবশ হয়ে গেল এবং আমি নিজেই নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেললাম। আমি এভাবেই থাকলাম তার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।
অতঃপর তিনি আমার দিকে না তাকিয়েই বললেন: “হে আল্লাহ, আমি কী অন্যায় করেছি যে তারা আমাকে হত্যা করার জন্য লোক (আমার নাম উচ্চারণ করলেন) পাঠিয়েছে!!!”
অতঃপর বললেন: হে আল্লাহ, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি তুমিও তাদের ক্ষমা করে দাও।
তখন আমি নিজের ভূল স্বীকার করে বললাম: হে জনাব, আমাকে ক্ষমা করুন।
তিনি বললেন: আস্তে কথা বলো যেন কেউ বুঝতে না পারে। এখন তুমি বাড়িতে যাও, আগামীকাল সকালে আমার নিকট এসো। সকাল হলেই আমি ভাবতে লাগলাম, যাবো কি-না, আর যদি না যাই তাহলে পরিস্থিতি কি হতে পারে। অবশেষে সাহস করে গেলাম। দেখলাম দূরের একটি মসজিদের পাশে মানুষজন তাকে ঘিরে আছে। সামনে গেলাম এবং সালাম করলাম। তিনি গোপনে আমাকে একটি টাকাভর্তি ব্যাগ দিলেন এবং বললেন: যাও, এগুলো দিয়ে ব্যবসা শুরু করো।
আমি টাকাগুলো বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছি। উক্ত টাকার বরকতে আজ আমি বাজারের একজন অন্যতম ব্যবসায়ীতে পরিণত হয়েছি এবং আমার যা কিছু আছে তার সবকিছু এই কবরবাসী শেইখের বরকতে হয়েছে। তাই আমি তাকে স্মরণ করে ক্রন্দন করছি।
শিক্ষা: মানুষকে ক্ষমা করুন এবং যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করুন।
তথ্যসূত্র: দসতানহয়ি আয মাকামাতে মারদানে খোদা###